Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

শিরোনাম
আখের রস বিক্রি করে সাবলম্বী
বিস্তারিত

মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সফলতার কাহিনী

বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের চকভালী গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলাম আখের রস বিক্রি করে সফলতা অর্জন করেছেন । রাজমিস্ত্রির পাশাপাশি অন্যজনের আখের রস মাড়াইয়ের মেশিনে দৈনিক লেবার হিসাবে কাজ করেন।  মোঃ শরিফুল ইসলাম চকভালী কৃষক সমবায় সমিতির একজন সদস্য। তাঁর বাবা একজন হত দরিদ্র কৃষক। স্ত্রী-সন্তান. বাবা-মা নিয়ে খুবই কষ্টে জীবনযাপন করতেন। সহকারী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার এর সঙ্গে দুবলাগাড়ি হাটে তাঁর সঙ্গে কথা হলে সে জানায় নিজেই এ ব্যবসা করলে সে অনেক লাভবান হবে। সে প্রেক্ষিতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার চকভালী কৃষক সমবায় সমিতি পরিদর্শনকালে তাঁর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিআরডিবি এর আওতায় পল্লী উদ্যেক্তা ঋণ তহবিল হতে ১৩/১২/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঋণ প্রদান করেন। সেই ঋণ নিয়ে প্রথমেই ভ্যান ও আখ মাড়াইয়ের মেশিন ক্রয় করেন। শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ও আশেকপুর এলাকায় ক্ষেতের উৎপাদিত আখ বিঘা হিসেবে কিনে নেন। প্রতি বিঘায় দিতে হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ওই আখ ক্ষেত থেকে দু’মাসে সরিয়ে নেবেন বলে চুক্তিবদ্ধ হন। তাই তিনি প্রতি ৪-৫ দিন পরপর ক্ষেত থেকে ১০-১৫ মন করে আখ কেটে আনেন। মোঃ শরিফুল ইসলাম বীরগ্রাম বাস স্ট্যান্ড, রানীরহাট, দুবলাগাড়ি হাট, নয়মাইল হাট, গোহাইল হাট, ডোমনপুকুর হাট এবং খরনা হাট আখের রস বিক্রি করেন। সারা বছরই আখ পাওয়া যায়। সারা বছরই তিনি রস বিক্রি করেন। তবে চৈত্র-বৈশাখ মাসে রসের চাহিদা বেশি থাকে। রমজান মাসে রোজাদারদের কাছে এ রসের চাহিদা থাকে খুবই বেশি। পরিশ্রম কম, আবার কামলা খাটার চেয়েও অনেক বেশি আয়। এখন এটাকে পেশা হিসেবেই বেছে নিয়েছেন তিনি। ছোট এক গ্লাস রসের দাম ১০ টাকা ও বড় গ্লাসে রসের দাম ২০ টাকায় বিক্রি করেন। দৈনিক মেশিনের তেল খরচ ও বরফের খরচ বাদ দিয়েও তার লাভ থাকে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মতো। ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে তিনি ঠেলা গাড়িতে আখ নিয়ে বেড়াতেন। মাড়াই মেশিন হাতে ঘুরিয়ে আখ থেকে রস বের করতেন। বর্তমানে তিনি শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ভ্যান নিয়েছেন। ভ্যানেই সেট করেছেন আখ মাড়াই মেশিন। ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে আখ, বালতি ভর্তি পানি, প্লাস্টিকের কয়েকটি চেয়ারসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র বয়ে বেড়ান উপজেলার এক প্রাপ্ত থেকে অন্য প্রান্তে।  মোঃ শরিফুল ইসলাম মনে করেন এ কাজটি বেছে না নিলে হয়ত তাকে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে অন্যের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হত। এসব কিছুর জন্য তিনি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার ও বিআরডিবি‘র কাছে কৃতজ্ঞ।

ছবি
ডাউনলোড
প্রকাশের তারিখ
26/01/2025
আর্কাইভ তারিখ
01/01/2047