মোঃ ইকরাম হোসেন এর সফলতার কাহিনী
মোঃ ইকরাম হোসেন ০৮/০৯/১৯৮৪ খ্রিঃ তারিখে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের দুরুলিয়া গ্রামে দরিদ্র পরিবারে জম্ম গ্রহণ করেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তিনি এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তিনি তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে অতি কষ্টে জীবনযাপন করেন। তার পিতার তেমন জমি না থাকার কারণে আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্যে দিয়ে তিনি বড় হয়ে ওঠেন। কাজেই তিনি তাঁর পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য ভাল আয়ের পথ খোজায় উদ্বিগ্ন ছিল।
মোঃ ইকরাম হোসেন দুরুলিয়া পূর্বপাড়া কৃষক সমবায় সমিতির একজন সদস্য। তাঁর বাবা একজন কৃষক। তিনি বিআরডিবি এর আওতায় আবর্তক কর্মসূচি থেকে দুরুলিয়া পূর্বপাড়া কৃষক সমবায় সমিতি হতে ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমবারের মত ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি ঋণের অর্থ এবং তাঁর নিজস্ব কিছু অর্থ দিয়ে তাঁর সামান্য জলাশয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। তিনি প্রথমেই মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পান । পরবর্তীতে ১২,০০০/- (বারো হাজার), ১৫,০০০/- (পনেরো হাজার), ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার), ৩১,০০০/- (একত্রিশ হাজার) এবং ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর ঋণের সমুদয় টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে তিনি কোভিড-১৯ পল্লী উদ্যেক্তা ঋণ তহবিল হতে ২৯/০৬/২০২২ খ্রিঃ তারিখে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করে। এলাকার চাচার নিকট থেকে ০১ (এক) বছরের জন্য ৫০ হাজার টাকায় লিজ নেন ২.৩১ একর জমির পুকুর । এ পুকুরে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন। সেখানে সর্বসাকুল্যে খরচ হয় ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা। বছর শেষে ৪,9৩,০০০/- (চার লক্ষ তিরানব্বই হাজার) টাকার মাছ বিক্রি করেন। তাতে করে প্রায় ১,4৩,০০০/- (এক লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার) টাকা লাভ করেন। এতে তার মাছ চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষ শুরু করেন।
পরবর্তীতে তিনি পল্লী উদ্যেক্তা ঋণ তহবিল হতে ১৩/১২/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এলাকার ঐ চাচার নিকট থেকে আবারো ০৩ (তিন) বছরের জন্য ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকায় লিজ নেন ২.৩১ একর জমির পুকুর । সেখানে সর্বসাকুল্যে খরচ হয় ৬,৫০,০০০/- (ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা। বছর শেষে 9,২৩,০০০/- (নয় লক্ষ তিয়াত্তর হাজার) টাকার মাছ বিক্রি করা। তাতে করে প্রায় 2,৭৩,০০০/- (দুই লক্ষ তিয়াত্তর হাজার) টাকা লাভ করেছেন।
পরবর্তীতে তিনি পল্লী উদ্যেক্তা ঋণ তহবিল হতে ১৮/১১/২০২৪ খ্রিঃ তারিখে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। নতুন করে প্রায় ৩.৫ একর পরিমান আরো তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে গলসা, পাবদা মাছের পাশাপাশি কার্প জাতীয় মাছ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি মাছ চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন এবং এখন তার নিজের ৩টি পুকুর যার মোট আয়তন ০.৯০ একর এবং আবাদি জমির পরিমাণ ১.৫০ একর।
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। একদিন মোঃ ইকরাম হোসেন এর খাদ্যের অভাব ছিল। এখন তিনি তাঁর পরিবারকে পুষ্টিকর খাবার দেন। তিনি বিশ্বাস করেন সততা, পরিশ্রম ও সুষ্ঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করলে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বর্তমানে তার নিজস্ব উন্নতির পাশাপাশি কয়েকজন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ব্যাপারে মোঃ ইকরাম হোসেন জানান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে আমি মাছ চাষের উৎসাহী হই ও উদ্যোগ গ্রহণ করি। এসব কিছুর জন্য তিনি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার ও বিআরডিবি‘র কাছে কৃতজ্ঞ।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস